নানান সমস্যায় জর্জরিত দাগনভূঁঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নিজস্ব প্রতিনিধি

চিকিৎসক ও কর্মচারীসহ জনবল সংকটে খুড়িয়ে চলছে ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য চিকিসা সেবা। শুধু টেকনিশিয়ান না থাকায় ৩০০ এমএ ক্ষমতা সম্পন্ন এক্স-রে যন্ত্রটি সাত বছর অযতেœ অবহেলায় পড়ে রয়েছে। চালক না থাকায় এ্যম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় হাসপাতালের সাধারণ রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পায়না রোগীরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রের তথ্য মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো রয়ে গেছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তাসহ ৯টি চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত হয়েছেন চার জন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারীর ৯৩টি পদের মধ্যে ৩২টি পদ শূন্য। নিরাপত্তা প্রহরী ও বাবুর্চিসহ ৪র্থ শ্রেণির ২১টি পদের মধ্যে ১২টি পদ দীর্ঘদিন শূন্য পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার ও ভান্ডার (ষ্টোর) রক্ষক পদ শূন্য । ২০০৯ সাল থেকে গত সাত বছর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে টেকনিশিয়ানের পদটি শূন্য পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এ্যাম্বুলেন্সের চালক নেই। দুইজন নিরাপত্তা কর্মী, একজন বাগান মালীর কেউ নেই। ৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চারটি পদ খালি। অফিস সহায়কের ৬টির মধ্যে ২টি, আয়া ২টির মধ্যে একটি, ওয়ার্ড বয়ের ৩টির মধ্যে ১টি, বাবুর্চি/সহকারী বাবুর্চির ২টি পদের মধ্যে একটি শূন্য ।
ফার্মাসিস্টের ৪টি পদের মধ্যে ২টি, ল্যাব টেকনোলজিষ্টের ২টি পদের একটি, রেডিওগ্রাফি টেকনোলজিস্টের একমাত্র পদটি শূন্য। ৩ জন অফিস সহকারীর মধ্যে আছে মাত্র একজন। ১১টি স্টাফ নার্সের মধ্যে ৫টি শূন্য । হারবাল এসিসটেন্ট, জুনিয়র মেকানিকের পদ দুটিও খালি পড়ে রয়েছে।

 

দাগনভূইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও জনবল কাঠামো ৩১ শয্যার রয়ে গেছে। ৯ জন চিকিৎসা কর্মকর্তার মধ্যে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) পদটি শূন্য।

৫ জন চিকিৎসককে প্রেষণে ফেনী সদর হাসাপাতালে দেয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে আবার চারজনকে দাগনভূঁঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে নিয়োজিত করা হলেও ইতিমধ্যে তিনজন চিকিৎসক ৬ মাসের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণে চলে গেছেন। বর্তমানে তাঁরা চারজন চিকিৎসক কাজ করছেন।

অবেদনবিদ (এ্যানেসথেসিয়া) চিকিৎসক না থাকায় জরুরী সিজার অপারেশন করা যায়না। বর্হিবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গড়ে ৪০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের সঠিকভাবে দেখাশোনা করতে হিমশিম খেতে হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *