ছাগলনাইয়া পৌরসভায় মহিলা মার্কেটে নেই মহিলা( অনিয়ম-দুর্নীতি পর্ব-১)

(পর্ব-১)

সৌরভ পাটোয়ারী, ছাগলানাইয়া থেকে ফিরে,
ছাগলনাইয়া পৌরসভরা মেয়র মোস্তফার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে এডিবি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, হাট-বাজার, পৌর মার্কেট ও সিএনজি স্টেশনের ইজরা অর্থ লোপাট, টেন্ডারে অনিয়ম, ভুয়া চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, সড়কের জায়গায় দখল করে দোকান ঘর নির্মাণসহ অনেকগুলো অভিযোগ রয়েছে। তিনি ছাগলনাইয়া পৌরসভাকে অনিয়ম-দুর্নীতি আখড়ায় পরিনত করেছেন। এ সব অভিযোগের বিষয়ে মেয়র মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন পৌরবাসী।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ২৫ মে ছাগলনাইয়া পৌরসভা মেয়র নির্বাচনে মো. মোস্তফা নির্বাচিত হয়। অভিযোগ রয়েছে নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী মেয়র পৌরবাসীকে কাঙ্খিত সেবা দিতে পারেননি। দীর্ঘ চার বছর মেয়র থাকার পরেও পৌরসভার মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারেন নি। এছাড়া পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা ফেলার ড্রাম্পিং স্টেশন, নিরাপদ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, মশক নিধনসহ অনেক সমস্যা চার বছরেরও সমাধান করতে পারেননি।
মেয়র মোস্তফার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে নির্যাতন করা হয়। মেয়রের নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে তাদেরকে দিয়ে অসহায় মানুষদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। খোদ পৌরসভার সচিব থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেয়রের অনুমতি ছাড়া কথা বলে না। মেয়রের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত বৃহস্পতিবার পৌরসভা গেইটে টমটম চালক রফিকের উপর হামলা করে মেয়রের লাঠিয়াল বাহিনী। এ সময় হামলাকারীরা রফিকের ব্যাটারী চালিত টমটমের চাবি নিয়ে যায়। রফিক ৮ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ মটুয়ার আতর আলীর ছেলে। এভাবে অনেকেই রফিকের মতো প্রতিবাদ করে মেয়রের লোকদের হাতে প্রহারের শিকার হয়েছে। অনেকে প্রতিবাদ করার ইচ্ছা থাকলেও নির্যাতনের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। অপরদিকে বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ড আলাউদ্দিকে ও বাজার ইজরা মন্তু মেম্বারকে বারবার টেন্ডার ছাড়া দেয়ায় মেয়রের বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতি ও উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।


মহিলা মার্কেটে নেই মহিলা ,

ছাগলনাইয়া পৌরসভায় নারীদের জন্য সরকারীভাবে মহিলা মার্কেট নির্মাণ করা হলেও মার্কেটে দোকানগুলোতে কোনো নারী পাওয়া যায়নি। ৫ কক্ষ বিশিষ্ট মার্কেটটি ভেঙ্গে ১২ টি কক্ষ করে পৌরসভা। সব দোকানগুলো বরাদ্দ পেয়েছে পুরুষেরা। দোকান বরাদ্দের জন্য দুই থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে পৌরসভা।
সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, সরকার নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্ভী করতে মহিলা মার্কেট নির্মাণ করে। এর ধারাবাহিকতায় ছাগলনাইয়া পৌরসভায় পাঁচটি কক্ষ বিশিষ্ট একটি মহিলা মার্কেট ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে মহিলাদেরকে দোকানঘর বরাদ্দ না দিয়ে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ছাগলনাইয়া পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌর মেয়র পাঁচটি কক্ষ বিশিষ্ট নির্মিত মহিলা মার্কেটের কক্ষগুলো ও বাথরুম ভেঙ্গে ১২টি দোকানঘর তৈরি করে উৎকোচ নিয়ে পুরুষদেরকে দোকানঘর বরাদ্দ দেয়। দোকানঘরের বরাদ্ধকৃত টাকাগুলো পৌর কোষাগারে জমা না দিয়ে মেয়র-কাউন্সিলরা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মহিলা মার্কেটের হাজী ক্লথ স্টোরের স্বাত্তাধিকারী প্রফুল্ল চন্দ্র সাহা জানান, তিনি পৌরসভা থেকে তিন লাখ টাকা সেলামি (জামানত) প্রদান করে মাসিক চার হাজার টাকা করে দোকানঘর ভাড়া নেন।
তার পাশের দোকানদার রাসেল সু-স্টোরের স্বাত্তাধিকারী আহসান উল্ল্যাহ জানান, তিনি পৌরসভাকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া প্রদান করেন। তবে জামানতের টাকার বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।
ওই মার্কেটের আরো রয়েছে, চমক স্টোর, সাবিত ট্রের্ডাস, ও নাহিদ ইসলাম এন্টারপ্রাইজসহ ১২টি দোকানঘর রয়েছে। এসব দোকানঘরের মালিক পুরুষরাই।
পৌর মেয়র এম মোস্তফা বলেন, সব-কটি দোকানঘর নারীর নামে বরাদ্দ হয়েছে। কারো কাছ থেকে সেলামী/জামানত নেয়া হয়নি। কেউ অন্যত্র ভাড়া দিলে সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।
এবিষয়ে ছাগলনাইয়া নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া তাহের জানান, এখানে মহিলা মার্কেট আছে বলে আমি এ প্রথম শুনেছি, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *