দাগনভূঁঞায় করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সভা

দাগনভূঁঞা প্রতিনিধি, ৬ ফেব্রুয়ারী

করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা কমিটির এক সভা বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার তানিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন।

 

সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, ফেনীতে এরইমধ্যে ৪৮ হাজার করোনার ভ্যাকসিন পৌঁছেছে। এরমধ্যে দাগনভূঞা উপজেলা পেয়েছে আট হাজার ৫০০ ভ্যাকসিন। সবাই করোনার টিকা পাবেন। তবে প্রথম ধাপে করোনা যুদ্ধের সম্মুখসারির লোক হিসেবে চিকিৎসক, নার্স, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও ৫৫ বছর বয়সের উর্ব্ধ ব্যক্তিগণসহ ১৫ ক্যাটাগরির লোকজন এই ভ্যাকসিন পেয়ে থাকবেন। জনপ্রতি দুটি ভ্যাকসিন হিসেবে প্রথম ধাপে দাগনভূঞায় চার হাজার ২৫০ জন পাবেন করোনার টিকা। ইতিমধ্যে তিন হাজার ২৬৯ জনের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সংগৃহীত তালিকা ও তালিকার বাইরে যারাই করোনার ভ্যাকসিন নিতে চান, তাদের প্রত্যেককে সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগতভাবে কেউ জটিলতা মনে করলে তারা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিবন্ধন বুথে এসে নিবন্ধন করতে পারবেন।

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, করোনার টিকা সারা বিশ্বে প্রথম বারের মতো প্রয়োগ হচ্ছে। যে কারণে এই টিকা প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী, গর্ভবতী নারী ও উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসসহ অসুস্থ লোকজনদের এই টিকা দেওয়া হবে না।

 

তিনি জানান, বাংলাদেশে আসা করোনা ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরীক্ষিত ও স্বীকৃত। এই টিকা গ্রহণে কোনো রকমের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই। এরপরও অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে বাড়ি বাড়ি না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দিয়ে এই টিকা প্রদান করা হবে, যাতে করে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া যায়। তিনি নিঃসংকোচ ও নির্ভয়ে এই টিকা গ্রহণে সবার প্রতি আহবান জানান।

 

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার তানিয়া বলেন, করোনা ভ্যাকসিনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় দাগনভূঞা উপজেলা প্রশাসন সব প্রস্তুতি নিয়েছে। সীমিত আকারে এরইমধ্যে ঢাকাতে টিকা দেওয়া শুরু হলেও ৭ ফেব্রুয়ারি একযোগে সারাদেশে টিকা প্রদান করা হবে। করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

 

দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন বলেন, সবার আগে যে কয়টি দেশ করোনার ভ্যাকসিন পেয়েছে তার একটি বাংলাদেশ। অথচ অনেক ধনী দেশও এখনো করোনা ভ্যাকসিন পায়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারেশমেটিক নেতৃত্বের কারণেই সবার আগে আমরা ভ্যাকসিন পেলাম।

 

তিনি বলেন, করোনা ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর এই কুটনৈতিক সাফল্যের কোথাও আমরা প্রশংসা করব, তা না করে দেশের একটি শ্রেণি উল্টো প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করছেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন; এরা দেশের মানুষের কখনো ভালো চায় না। তিনি এ নিয়ে গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করার আহবান জানান।

 

সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুর রহমান, দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার কামাল উদ্দিন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন স্বপন, সিন্দুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী, পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রায়হান, দাগনভূঞা পৌরসভার সচিব সূর্য কান্তি সাহাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *