জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ফেনী থানায় জিডি করলেন বাখরাবাদ গ্যাস ম্যানাজার

নিজস্ব প্রতিনিধি, ১০ ডিসেম্বর

এবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ফেনী মডেল থানায় জিডি করলেন বাখরাবাদ গ্যাস ম্যানাজার সাহাব উদ্দিন । ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে জিডিতে ম্যানেজার সাহাব উদ্দিন উল্লেখ করেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ১০০ ভাগ মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এরিয়া বিতরণ কার্যালয় বাথানিয়া ফেনী জেলার আওতাধীন ৬ টি উপজেলায় বিল খেলাপি গ্রাহক ও অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীগণের সংযোগ বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম চলমান।

সপ্তাহে পাঁচ দিন  সংযোগ বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম চলমান থাকে । সংযোগ বিচ্ছিন্ন এরপর প্রায় উশৃংখল লোকজন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এরিয়া বিতরণ কার্যালয় বাথানিয়া ফেনী এসে বিভিন্ন ধরনের গালাগাল ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। তার অংশ হিসেবে গত ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টার সময়  কিছু উশৃংখল লোকজন অত্র কার্যালয়ে এসে গালাগাল ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। ফলে অত্র কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ জীবন নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন ।

এর আগে ফেনীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় গত ৮ ডিসেম্বর সকালে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর এক কর্মকর্তাকে তিন ঘন্টা টয়লেটে অবরুদ্ধ করে রাখে ঠিকাদারেরা। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দুই দিনেও থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনার পর দিন যার পক্ষে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ফেনী বাখরাবাদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলা, ছাগলনাইয়া ও শহরের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকমাস ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জরিমানাও করা হয়েছে। অবৈধ সংযোগ দেওয়ার ঘটনায় ফেনীতে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে অবৈধ সংযোগ প্রদানকারী ঠিকাদারেরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। মঙ্গলবার সকালে তারা বিসিক বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের সামনে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় ও গালমন্দ করে। পরে এক পর্যায় ৪০/৫০ জন অফিসে ঢুকে পড়ে। অফিসের সিসি টিভি ফুটেজে মহিউদ্দিন দিদার ও তার ভাতিজা রিংকু সহ বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়। অফিসের বিক্রয় সহকারী মোঃ জামাল উদ্দিন তাদের ভয়ে বাথরুমে ঢুকলে তাকে ওইখানে অবরুদ্ধ করে রাখে দুই ঘন্টা।তিনি আরো জানান, প্রতি রুম তল্লাশী করে সন্ত্রাসী পরে আমি বাথরুম-টয়লেটে আছি জানতে পেরে দরজা তিন বার লাতি মারে এ সময় প্রাণের ভয়ে ফোন- মোবাইল টোন বন্ধ করে দিন ।
জামাল উদ্দিন বলেন, কি অপরাধ আমার। আমি সরকারী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাথরুমে দুই ঘন্টা ও অফিসে এক ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলাম। তিনি আরো জানান, মহিউদ্দিন দিদারের ভাতিজা রিংকুর নেতৃত্বে কতগুলো লোক জড় হয়ে আমার নাম ও শিপনের নাম ধরে গালাগালি করে। পরে তিনি বাথরুম থেকে ম্যানেজারকে মোবাইলে ম্যসেজ পাঠান। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ খালেদ হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করা হলে পুলিশ পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *