জাফর ইমাম (বীর বিক্রম) : দাম দিয়ে কিনেছি এই বাংলা।

শেখ তাজউদ্দিন  চৌধুরী,

 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়লে জনযুদ্ধের আদলে সূচনা হয় মুক্তিযুদ্ধের। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারা দেশে শুরু হয়ে যায় প্রতিরোধযুদ্ধ। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, সামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্য এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ দেশকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর কব্জা থেকে মুক্ত করতে কয়েক মাসের মধ্যে গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে মুক্তিবাহিনী সারা দেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।

 

১৯৭১-এ গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধের তীব্রতায় তখন গোটা বাংলাদেশের রণাঙ্গন ছিল উত্তপ্ত। গঙ্গাসাগর, সালদা নদী, মন্দবাগ, হিলি, কমলপুর, জামালপুর, সাতক্ষীরা কানাইঘাটসহ আরো অনেক রণাঙ্গনের পাশাপাশি বিলোনিয়া রণাঙ্গন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফেনী-বিলোনিয়া উত্তপ্ত একটি রণাঙ্গন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। প্রায় ১০০ বর্গমাইলের এই এনক্লেভটির স্ট্রাটেজিক গুরুত্বের কারণে ফেনী-বিলোনিয়া ছিল আমাদের এবং পাকিস্তানিদের জন্য মর্যাদার লড়াই ক্ষেত্র। জুন মাসের প্রথমার্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খান এখানে আসেন নিজেই যুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিতে। মিত্র বিহিনীর চার কো-কমান্ডার লে. জেনারেল সগত সিং এবং তার ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মে. জেনারেল আর ডি হীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন বিলোনিয়ার দখল নিয়ে। তখন  সেখানে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র দুইজন অফিসার ছিলেন।

তারা হলেন ২ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ এবং ফেনী-বিলোনিয়া রণক্ষেত্রের টাস্কফোর্স কমান্ডার ক্যাপ্টেন জাফর ইমাম। সেই সঙ্গে ছিলেন আরো কিছু সাহসী যোদ্ধা। তারা ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের অধিনায়কত্বে অর্থাৎ ১০ম ইস্ট রেজিমেন্টের সৈনিক এবং গণযোদ্ধারা ফেনী-বিলোনিয়ায় যুদ্ধরত পেশাদার পাকিস্তানি সেনাদের পর্যুদস্ত, পরাভূত ও পরাজিত করে। মিত্র বাহিনীর আর্টিলারি অবশ্য অসামান্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সাপোর্ট প্রদান করেছিল।

যুদ্ধরত ২৪ এফএফ রেজিমেন্টের সব অফিসার এবং সৈনিক যুদ্ধবন্দি হয় ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের কাছে। ২৫ মার্চের অব্যবহিত পূর্বে এই ইউনিটে তিনি চাকরিরত ছিলেন।

 

স্থিরচিত্র:জাফর ইমাম বীর বিক্রমের সাথে আমি,মুক্তিযোদ্ধা শেখ মহিউদ্দিন চৌধুরী,মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালউদ্দিন চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *