জাতিসঙ্ঘ তদন্ত দলকে ঢুকতেই দিলো না মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসঙ্ঘ তদন্ত দলের নির্ধারিত সফর মিয়ানমার সরকার হঠাৎ করেই বাতিল করে দিয়েছে। ইয়াংগনে জাতিসঙ্ঘ মুখপাত্র স্তানিস্লাভ সেলিঙ বিবিসিকে জানান, সরকার এই সফর বাতিল করার পেছনে কোনো কারণ দেখায়নি।রোহিঙ্গা মুসলমানরা কেন পালাতে বাধ্য হয়েছে সেটা রাখাইনে গিয়ে তদন্ত করার জন্য জাতিসঙ্ঘ মিয়ানমারের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।
মাস খানেক আগে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান, বৌদ্ধ এবং হিন্দু ঘরবাড়ি ছেড়ে রাখাইন রাজ্যে ভেতরেই সাময়িক আশ্রয়ে রয়েছে।
চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশে।
জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলো বলছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের সংখ্যা গত কয়েক দিনে লক্ষণীয় রকমে কমে গেছে।
তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, মিয়ানমার ছেড়ে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা যে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে এমন কথা বলার সময় এখনো আসেনি।

ওদিকে, মিয়ানমারে কর্মরত একটি ত্রাণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির প্রধান এবং সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেছেন, যে সব দেশ বর্মী সেনাবাহিনীকে সমর্থন দেয় তাদের উচিত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের জন্য তাদের প্রভাবকে কাজে লাগানো।
তিনি বলেন, এ সমর্থনকে মানবাধিকার লংঘনের কাজে ব্যবহার করা চলে না।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে তাতে সেখানে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ চলছে বলে অভিযোগও উঠেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ‘বিশাল পরিমাণে’ আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
শরণার্থী সংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘ হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে বলেছেন, এ এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

রোহিঙ্গাদের জন্য ভারত ও চীন থেকে এসেছে ৭৫৩ টন ত্রাণ
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ভারত ও চীনের সাড়ে সাত শ’ টন ত্রাণ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ভারত থেকে তৃতীয় চালানে ৭০০ টন ত্রাণ নিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ আইএনএস ঘড়িয়াল চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর জেটিতে পৌঁছায়।
ভারত থেকে তৃতীয় দফায় আসা এই ত্রাণের চালানে চাল, ডাল, লবণ, চিনি, চা, গুঁড়ো দুধ, বিস্কুট, সাবান ও মশারি রয়েছে।

মোট ৬২ হাজার প্যাকেটে এই ত্রাণ বিতরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে হাই কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে চীন থেকে পাঠানো দ্বিতীয় চালানে সাড়ে ৫৩ টন ত্রাণ নিয়ে একটি উড়োজাহাজ সকালে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নামে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে তার সরকারের পাঠানো ত্রাণ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর, নৌবাহিনী, ভারতীয় নৌবাহিনী, চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চীন থেকে বৃহস্পতিবার আসা দ্বিতীয় চালানে রয়েছে তিন হাজার কম্বল। বাংলাদেশে চীন দূতাবাসের ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল কাউন্সেলর লি গুয়াংজুন বিমানবন্দরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে এই ত্রাণ হস্তান্তর করেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বুধবার একটি চীনা বিমানে ৫৭ দশমিক শূন্য তিন টন ত্রাণ এসেছিল। সেখানে ছিল ২২০০ তাঁবু। এসব ত্রাণ কক্সবাজারের উখিয়ায় পাঠানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *