টেন্ডারে অনিয়মের কারণে লাইসেন্স নবায়ন করেননি ঠিকাদাররা

(পর্ব-৪)

 সৌরভ পাটোয়ারী, ছাগলনাইয়া থেকে ফিরে, ৮ সেপ্টেম্বর
ছাগলনাইয়া উপজেলায় ঠিকাদারী পেশায় কাজ করতেন প্রায় অর্ধশতাধিক ঠিকাদার। কিন্তু গোপন টেন্ডারের কারনে তারা কোনো কাজ পাচ্ছে না। এতে ঠিকাদার তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দেয়ার কারনে পৌরসভার কাজগুলো ঠিকাদারদের অজানা থেকে যায়। এসব কাজগুলো গোপনে টেন্ডার ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদাদের দিয়ে দেন । এ বিষয়ে ফেনীর তালাশের সঙ্গে কথা হয় বৃদ্ধ ঠিকাদার রেজাউল মেম্বারের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, ৩৫ বছর ধরে ঠিকাদারী পেশায় আছি। গোপন টেন্ডারের কারনে কোনো কাজ পায় না এবং কাজের খবরও পান না তিনি।  ফলে ঠিকাদারী লাইসেন্স আর নবায়ন করেননি। তিনি আরো জানান, দক্ষিণ সত্তর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের কালভাট বা ব্রীজ, কবরস্থান ও ডীপ টিউবওয়েলের নিয়ে একটি প্যাকেজে আমি সফল ভাবে কাজ করলেও বিল পেয়েছি তিন বছর পরে। অপরদিকে স্বজনপ্রীতি ও গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পেয়ে যাচ্ছেন মেয়র আত্মীয় আলম খান, নুরুল হক ও আনিসুল হক।
ছাগলনাইয়া পৌরসভা ২০০২ সালের ৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালে ১৪ জানুয়ারী প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রাহণ করেন মো. আলমগীর হোসেন বিএ। প্রতিষ্টার পর থেকে পৌরসভার বিভিন্ন কাজ করছে ঠিকাদার হিসেবে কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর মির্জা, মো. শহিদ, নুর হোসেন ও উজ্জলসহ অর্ধ শতাধিক ঠিকাদার। কিন্তু বর্তমানে তারা কাজ পাচ্ছেন না, পূর্বের কাজের টাকাও পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদারেরা জানান, বর্তমানে কাজগুলো পাচ্ছেন মেয়রের ঘনিষ্টজন প্রিয়া এন্টারপ্রাইজের মেজবাহ উদ্দিন, লাকী এন্টারপ্রাইজের একরাম, নুরুল হক, কালা মিয়া, নাছির । এরাই বিভিন্ন নামে কাজগুলো ভাগাভগি করে নেন।
পৌর শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন জানান, তার ঠিকাদারী লাইসেন্স থাকার পরেও ছাগলনাইয়া পৌরসভা থেকে চার বছর ধরে কোনো কাজ পায়নি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাড়া গোপনে আত্মীয়-স্বজনদেরকে টেন্ডারগুলো দিয়ে দেন। এতে আমাদের মতো প্রকৃত ঠিকাদারেরা কাজ না পাওয়ার কারনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অনেকে ক্ষোভে লাইসেন্স নবায়ন করছেন না।
এ প্রসঙ্গে মেয়র মো. মোস্তফা জানান, টেন্ডারের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়মানুসারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। কাজে অনিয়ম করে বিদায় দলীয় লোকদের কাজ দেয়া হয় না। পৌরসভা রাজস্ব আয় কম থাকায় ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *