ছাগলনাইয়ায় অধ্যক্ষ অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাগলনাইয়া উপজেলার আলহাজ্ব আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাহতাব হোসেন প্রামানিককে দূরভিসন্ধিমূলকভাবে অপসারনের চক্রান্তের প্রতিবাদে ১৫ মে মঙ্গলবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা।
এতে বক্তব্য রাখেন, আলহাজ্ব আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক মুন্সী মোরশেদ আলম, রাষ্ট্র বিজ্ঞান ২য় বর্ষের ছাত্র আলা উদ্দিন পাটোয়ারী, দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ফাহিমা আক্তার প্রমূখ।
ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাহতাব হোসেন প্রামানিক একজন সৎ নীতিবান ও আদর্শ শিক্ষক। এই কলেজে যোগদানের পর থেকে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ কবির আহমেদ অবসরে যাওয়ার পর গত ১৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মাহতাব হোসেন প্রামানিক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কলেজের সভাপতি ও কয়েকজন সদস্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গভর্ণিং বডির পাঁচ সদস্য সভায় অনুপস্থিত থাকা, জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ প্রদানে নিস্ক্রিয়তা, কলেজ ফান্ডের টাকা খরচ করে ঢাকায় গিয়ে সভা করা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি থাকা সত্তে¡ও অনার্স মাষ্টার্স শাখার প্যাটান্টভূক্ত শিক্ষকদের তাদের স্কেল অনুযায়ী বেতন প্রদান না করাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এই দূরত্বের জের ধরে গভর্ণিং বডির ২জন সদস্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করেন।
কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কিছু কাল্পনিক ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে গত ১০ মে ২০১৮ তারিখে কলেজের সভাপতি সংসদ সদস্য শিরীন আখতারের সভাপতিত্বে ঢাকায় জাতীয় সংসদ সদস্য ভবন-৫ এর ৭০১ নং ফ্ল্যাটে এক বৈঠকে গভর্ণিং বডির নয়জন সদস্যের উপস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১মাস ২৮দিন পর ড. মাহতাব হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুমিত্র কুমারকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ৯সদস্যের মধ্যে ৪সদস্য ইতিপূর্বে ৭-৮টি বৈঠকে টানা অনুপস্থিত থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কলেজ সমূহের গভর্ণিং বডির (সংশোধিত) সংবিধি ২০১৫ এর বিধি ১৪(গ) অনুযায়ী গভর্ণিং বডির সদস্য হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাহতাব হোসেন প্রামানিককে দূরভিসন্ধিমূলকভাবে অপসারনের সিদ্ধান্তটি বাতিল করাসহ সকল অনিয়ম দূর করে কলেজে লেখাপড়ার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নচেত ক্লাস বর্জনসহ কঠোর ও কঠিন আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনার হুমকি দেন।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে দেখা যায় কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্ণিং বডির সদস্য সচিব ড. মাহতাব হোসেন প্রামানিক তার দায়িত্ব পালন করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি লোক মুখে শুনেছি। সভাপতি বা অন্য কেউ আমাকে কিছু জানাননি কিংবা নতুন কেউ দায়িত্ব বুঝে নিতেও আসেননি। তবে বিধি লংগন করে তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর আশঙ্কা করেছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি ।
অপরদিকে, দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযোগ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজের নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার সহকারী অধ্যাপক সুমিত্র কুমার ।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি এমএম মুর্শেদ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে ।
ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল কলেজটির বিভিন্ন সমস্যার কথা জেনেছেন বলে জানিয়ে সরকারি বিধি-বিধান মেনে কলেজ পরিচালনা করতে সবাইকে আহবান জানিয়েছেন ।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার জানান, নতুন একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *