ছাগলনাইয়ার মুন্না হত্যা মামলা: ২৮ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ

তালাশ ডেস্ক,

 সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় গত ৮ বছরে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ মো: কায়সার মোশারফ ইউসুফ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে পৌর শহরের হাসান টিম্বারের সামনে বসা ছিলেন মোরশেদুল হাই মুন্না। কয়েকজন দূর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়লে ঘটনাস্থলে মারা যান মুন্না। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী রাশেদা বেগম বাদি হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথম তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন এসআই পরেশ চন্দ্র কারবারী। এরপর একেএকে পুলিশ পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন মাহমুদ ও পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। একপর্যায়ে বাদিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডির ওসি আতাহার আলী শেখ ও ওসি আবদুল ওয়াদুদ, কুমিল্লা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো: আবদুল হাই তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে বদলী হয়ে যান। সবশেষ সিআইডি কুমিল্লা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মিজানুর রহমান ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযুক্তরা হলেন- বেলাল হোসেন, আবদুল কাদের জিলানী, ইব্রাহিম, মহিউদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, বশর প্রকাশ মামুন, সঞ্জিত কুমার শীল, নুরুল আমিন ভূঞা বাদশা, আনোয়ার হোসেন, সৈয়দ ওমর জামিল, ফাহিম হাসান রনি ও মোক্তার হোসেন। ২০০৭ সালের তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আরিফুর রহমান উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন।করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজেন্দ্র কুমার ভৌমিক জানান, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই।বাদির সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু।হয়। গত বছরের ১৯ নভেম্বর সবশেষ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আসামীদের মধ্যে সঞ্জিত কুমার শীল, দেলোয়ার হোসেন, বশর প্রকাশ মামুন তৎকালীন প্রথম।শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেট বেগম সায়মা ইউনুছের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, ম্যাজিষ্ট্রেট বেগম সায়মা ইউনুছের আদালতে সাক্ষীদের মধ্যে মঞ্জুরুল হাসান, আবু আহমদ, জাফর আহমদ, আবুল বশর, শহীদ উল্যাহ, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মুন্সি মশিউর রহমানের আদালতে বেলাল।হোসেন, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেট আমির আবদুল্লাহর আদালতে মো: মঞ্জুরুল।করিম ও আবদুল খালেক এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: রেজাউল করিমের আদালতে মহিউদ্দিন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের মে, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে সাক্ষ্যগ্রহণের।ধার্য তারিখ ছিল। উল্লেখিত তিন তারিখে কেউ আদালতে সাক্ষ্য দিতে।আসেননি।

মামলার বাদি রাশেদা আক্তার রুমা জানান, মামলাটির বিচার পেতে সর্বোচ্চ।চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিটি তারিখেই আদালতে হাজির হচ্ছি। সরকারি সাক্ষীদের হাজিরের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত জটিলতা থাকায় বিলম্বিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর দ্বিজেন্দ্র কুমার কংশ।বণিক  জানান, সাক্ষী হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের। মামলার তদন্ত।কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন জায়গায় বদলী হওয়ায় নির্ধারিত তারিখে হাজির হওয়া।সম্ভব হয়না আদালত মামলাটি খুবই গুরুত্বের সহকারে অগ্রগতি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *