ছাগলনাইয়ার ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িটি ভেঙ্গে ফেলছে ভূমিদস্যুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ২৬ সেপ্টেম্বর
পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার স্থান ছাগলনাইয়ার পৌরসভায় ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িটি শুক্রবার সকালে ভেঙ্গে ফেলে দূবৃর্ত্তরা। এতে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জমিদার বিনোদ বিহারী পোদ্দার বংশধর জমিদার ওমর কৃষ্ণ চৌধুরীর ৮ একর জায়গার উপর নির্মিত এ জমিদার বাড়িটি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদারদের হামলার শিকার সংখ্যালঘু রাজপরিবারটি সকল ভ‚-সম্পদ রেখে ভারত চলে যায়। দেশ স্বাধীন হবার পরও তারা আর ফেরেনি। বাড়িটি পৌর এলাকার বাঁশপাড়ায় অবস্থিত। বাড়িটি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় এই জায়গার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। যার ফলে শতবছরের পুরোনো জমিদার বাড়িটি দখল করতে ভ‚মিদূস্যদের একটি চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে জমিদার রাজবাড়িটি ভাঙ্গন শুরু করে ছাগলনাইয়ার পৌর মেয়র মোস্তফা, শাহজাহান ও আলী।   ভুলড্রোজার দিয়ে ভাঙ্গা শুরু করে রাজবাড়িটি। জমিদার বাড়ির পাশে ৭টি চিতা মন্দির থাকায় এ জমিদার বাড়ির নাম এখন ৭ মন্দির বাড়ি বা রাজবাড়ি হিসাবে পরিচিত। এগুলো প্রত্ন তাত্ত্বিক সম্পদের আওতায় রয়েছে। ১৯৭১ সালের দিকে জমিদার বিনোদ বিহারী ভারতের কলকাতা চলে যাবার পর জবর দখল করে নেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। সরকার পরিবর্তন ও ক্ষমতার পালাবদলে কখনও বিএনপি, কখনও আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে জায়গাটি দখলে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ভূমি দস্যুরা।
ছাগলনাইয়া পৌরমেয়র মো. মোস্তফা জানান, এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমার পিতা মো. ইদ্রিস এ সম্পত্তি ক্রয় করে। তবে এই সম্পত্তি কবে, কখন তার পিতা ক্রয় করেছেন তার মনে নেই বলে জানান। মেয়র আরো জানান সম্পত্তির দলিল অনুসারে আমরা খাজনা দিচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, ভূয়া দলিল তৈরী করে মৃত ফয়েজ আহম্মদ চেয়ারম্যান রাজবাড়ির  এক অংশ বাড়ি দখল করেন। বর্তমানে ফয়েজ চেয়ারম্যানের ভাইরা বিনোদ বিহারী পোদ্দারা সকল ভূ-সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে। বর্তমানে ওই জায়গায় একটি প্রার্থনা মন্দির, সাতটি চিতা মন্দির ও খাজনা আদায়ের স্থান রাজবাড়ি রয়েছে। এখানে ৩ একর বিশিষ্ট দিঘী ও  জমিদার বাড়িটির অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসিরা অভিযোগ করেন।
এদিকে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট(এডিএম) গোলাম জাকারিয়া জানান, জায়গাটি ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *