গ্যাসে ভর্তি কক্ষে মশার ব্যাটের স্পার্ক থেকে বিস্ফোরণ : পুলিশ

ফেনী প্রতিনিধি, ৬ মার্চ
ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের শফিক ম্যানসনে পঞ্চম তলায় যে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা নিয়ে প্রেসবিফিং করেছেন ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী। আজ শনিবার(৬ মার্চ) বেলা দুটায় প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন,অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ ও মশা মারার ইলেকট্রিক প্যাডে স্পার্কিং এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ(ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিটের এক্সপার্ট টিমের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন ফেনীর ফায়ার সার্ভিস ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের এক্সপার্ট টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন এখানে বোমা বিস্ফোরণের জন্য যে আলামত থাকা দরকার তা প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি। তারপরও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের আরেকটা টিম আসছে তারা বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখবেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যেহেতু বোমার কোন আলামত পাওয়া যায়নি সেহেতু গ্যাসের আগুন বিহীন চুলা ওপেন ছিল। সেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হতে হতে দরজা জানালার গ্লাস বন্ধ রুমগুলোতে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। তখন গ্যাস বের হতে হতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সারা ভবন। তখন আহত ভিকটিমদের একজন মশা মারার ইলেক্ট্রিক ব্যাট দিয়ে মশা মারার চেষ্টা করলে স্পার্ক-শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে তারা দগ্ধ হয়। বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে মুহূর্তের মধ্যে দরজা জানালা ভেঙে যায় চুরমার হয়ে যায়। গ্লাস ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বেসিন ভেঙে যায়, যে দিকে গ্যাসের চাপ ছিল সে দিকে দরজা জানালা বন্ধ ছিল সেদিকেই মূলত বাস্ট বা বিস্ফোরণ হয়।

তিনি আরো জানান, দগ্ধ ভিকটিমদের সাথে কথা বলে এটি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের একজন জানান, মশা মারার প্যাড স্পার্ক করার সময় মশার যে স্পার্ক হয় ওখান থেকেই মূলত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফেনী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জাকের হোসেন, ঢাকার ডিএমপি থেকে আগত ৪ সদস্যের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলের টিম লিডার পরিদর্শক মোদাচ্ছের কায়সার। দুপুর ১২টার দিকে ৪ সদস্যের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ফেনী এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, ফেনী শহরের শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কের ৫ তলা ভবনে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। মূহুর্তে লন্ডভন্ড হয়ে যায় পুরো বিল্ডিং এর আসবাব পত্র। বিস্ফোরণে পঞ্চম তলায় থাকা মা মেয়ে তিন জন দগ্ধ হয়ে শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যায়। তাদের আশংকা জনক অবস্থায় ঢাকায় মেডিকেল কলেজের বান পাঠানো হয়েছে৷

আহতরা হলেন- মা মেহেবুন্নেসা (৪০), দুই মেয়ে ফারাহ ইসলাম (১৮) ও হাফসা ইসলাম (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ের করেরহাট। স্বামী মাহফুজুল ইসলাম দুবাই প্রবাসী। দগ্ধদের মধ্যে মা মেহেবুন্নেসা (৪০) ও হাফসা ইসলামের (১৪) অবস্থা আশংকাজনক। তাদের দুই জনে দেহের ৬০ ভাগ ঝলসে গেছে। তারা দুইজনই আইসেইউতে আছেন।

আহতদের দাদা আবুল কাশেম জানান, মেয়েদের স্কুল কজেলে পড়া-লিখা করারনোর জন্য প্রায় এক যুগ ধরে তারা শফিক ম্যানসনের ৫ তলার পূর্ব পাশে ইউনিটে বসবাস করতেন। বড় নাতনি ফারাহ ইসলাম (১৮) ফেনী সরকারী জিয়া মহিলা কলেজ থেকে এবার আইএ পাশ করে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য ট্রাই করছে। ছোট মেয়ে হাফসা ইসলাম (১৪) ভবনের পাশে অবস্থিত হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বউ মা মেহেবুন্নেসা তাদের দেখা শোনা ও পড়া-লেখার জন্য মূলত্ব শহরে থাকতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *