খুঁড়িয়ে চলছে ফেনী জেলা সদর হাসপাতাল !

নিজস্ব প্রতিনিধি,
খুঁড়িয়ে চলছে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের কার্যক্রম। এটি নামেই ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। নেই পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। ফলে রোগী দূর্ভোগ চরমে পৌঁচেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসকের ১৮২টি পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ৪৭টি পদ। ২য় থেকে ৪র্থ শ্রেণির এক হাজার ৪১টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৯৪টি পদ।

নতুন ভবনে ১০ শয্যার আইসিইউ, ১২ শয্যার সিসিইউ, ১৪ শয্যার ডায়ালাইসিস বিভাগ, ৪টি অপারেশন থিয়েটার, সিটিস্ক্যান এর ব্যবস্থা থাকলেও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবলে অভাবে দুই বছরেও চালু করা যায়নি মেশিনগুলে।

হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রেয়েছে ৮টি এক্স-রে মেশিন, ৪টি আল্ট্রাসনোগ্রাফী মেশিনসহসহ আনুষাঙ্গিক সকল যন্ত্রপাতি। প্যাথলজী বিভাগে নেই পর্যাপ্ত সরঞ্জাম। নতুন ভবনে ২টি লিফটের ব্যবস্থা থাকলেও একটি লিপ্ট এখনো চালু হয়নি । আর যেটি সচল রয়েছে তাও রোগী বহনের স্বমতা নেই।

হাসপাতালে ৩য়তলা ও ৪তলা বিশিষ্ট দুটি ভবনে চিকিৎসা সেবা চালু হলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি চিকিৎসা সেবার মান। হাসপাতালের জরুরী বিভাগটি ছোট হওয়ায় দু’জনের বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়না।

দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অযতœ অবহেলায় পড়ে রয়েছে অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি বিশুদ্ধকরণের জন্য আনা কোটি টাকার অটো স্টেলাইজার ও অটো কেপ মেশিন। হাসপাতালের একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটি কখনই রোগী বহনে ব্যবহার হয়নি। চিকিৎসক আর সরকারী কর্মকর্তাদের আনা নেওয়ায় ব্যস্ত থাকে এ্যাম্বুলেন্সটি।

পুরাতন ও নতুন দুই ভবন মিলে আড়াইশ শয্যার এ হাসপাতালে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাতায়াতের জন্য নেই রিং করিডোর। হাসপাতালে ৭ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডটিতে গড়ে রোগী ভর্তি থাকে ৫০ জন। তাই ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের করিডোর ও বেডের পাশে-নীচে চিকিৎসা নিতে হয়। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকটের কারণে প্রতিটি ওয়ার্ডে নোংরা ও অস্বাস্থ্য পরিবেশে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে রোগীরা।

১৯৮২ সালে ১০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফেনী সদর হাসপাতাল। জেলার ৬টি উপজেলা ছাড়াও পাশবর্তী রামগড়, মীরসরাই, চৌদ্দগ্রাম, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভিড় করতে থাকে এ হাসপাতালে। রোগীদের চাহিদার প্রেেিত ১৯৯৯ সালে তৎকালিন সরকার ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নিত করে। ২০০৯ সালে তৎকালিন সরকার ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় রুপান্তরের কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

বিগত ০৮ মে ২০১৫ খ্রি. ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির এক শত ৪৬ জন কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরিক্ষা হলেও অদ্যাবধি ফল প্রকাশিত হয়নি। এতে মাঠ পর্যায়ে এবং প্রশাসনিক কাজ চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। অথচ সে অনুপাতে বাড়েনি চিকিৎসা সুবিধা। হাসপাতাল কর্তৃপ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও সমস্যার সংকটের কোন সুব্যবস্থা করতে পারেনি।
রোগিনী মালেকা বেগম(৫৫) জানান, এক্স, রে থেকে শুরু করে পরীক্ষার যন্ত্র এখানে নেই । বাহির কিনিক থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সদর ডাক্তারদের দেখাতে হয়।

ফেনী জেলা সদর হাসপাতাল তত্ত্ববধায়ক  জানান, রোগীদের সকল অভিযোগ ও স্বল্পতার কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন, এসব সংকট থেকে উত্তরণে বেশ কয়েকদফা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করি সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, এই হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করা হয়েছে । স্বল্প সময়ে সমস্যার সমাধান হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *