কুড়িয়ে পাওয়া শিশু উদ্ধার>ফেনীতে নবজাতক রেখে পালানোর চতুর্থ ঘটনা

ফেনী প্রতিনিধি, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

তিনদিন বয়সী ফুটফুটে নবজাতক কন্যাশিশুকে ফেনীর সুলতানপুর রেললাইনের পাশের ঝোপে রেখে পালালো স্বজন। তাতে বাধ সাধেনি মানবতা! কুড়িয়ে পাওয়া ‘মা’ নাছিমার ভালোবাসায় শিশুটি এখন ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঠাÐাজনিত সমস্যা থাকলেও বর্তমানে শিশুটি ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আশুতোষ।

গত রোববার রাত আটটার পর ফেনী শহরের সুলতানপুর আলমের বস্তির কাছে নাছিমা আক্তার শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে ঝোপের মধ্যে তাকে খুঁজে পায়। পার্শ্ববর্তী শর্শদি ইউনিয়নের অধিবাসী নাছিমা শিশুটিকে নিজের ঘরে আনার দু’ঘন্টা পর ডিবিসি নিউজ চ্যানেল ও ডেইলী অবজারভারের ফেনী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূইয়া ও ফটো সাংবাদিক দুলাল তালুকদারের সহযোগিতায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে নবজাতক শিশুটি জেলা সদর হাসপাতালের ৪০১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিঃসন্তান নাছিমা শিশুটিকে দত্তক নিতে চান। সে খুলনার অধিবাসী রিক্সাচালক ফারুকের স্ত্রী ।

জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আশুতোষ জানান, শিশুটি নিবিড় পর্যবেক্ষনে আছে । তবে এখন বিপদমুক্ত নন ।

ফেনী সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে। তাকে সকল প্রকার সহযেগিতা দেয়া হবে।
ফেনীর বায়েজিদস কিনিকের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাকারিয়া মো. সিদ্দিকী বলেন, মায়ের সিজোফ্রেনিয়া ও ডিপ্রেশন থেকে এ সকল ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এছাড়া সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় এমন অস্থির অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, এর আগে সদর হাসপাতালে ঠোঁট কাটা এক কন্যাশিশু, শহরের গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের সিঁড়ির নিচে পুত্রশিশু এবং একাডেমি এলাকার ময়লার স্তুপে পলিথিনে মোড়ানো নবজাতক শিশু রেখে পালনোর ঘটনা ঘটেছে। পরে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বিত সিদ্ধান্তে তিন শিশুকে দত্তক দেয়া হয়। এই নিয়ে ফেনীতে গত এক বছরে ৪টি নবজাতক শিশু পাওয়া যায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *