ঐতিহ্যের নিরব সাক্ষী জমিদার শমসের গাজীর দীঘি…( পর্ব -৫)

সৌরভ পাটোয়ারী, ফেনী
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায় জন্মে ছিলেন জমিদার শমসের গাজী। তৎ-কালীণ ভারত শাসনামলে ১৭০৬ খৃষ্টাব্দের জমিদার বাবা পীর মোহাম্মদ গাজী ও মাতা কৈয়ারা বিবির ছেলে শমসের গাজী।

 

শৈশবে বাবা হারান শমসের গাজী পরে তালুকদার জগনাথ সেনের গৃহে লালিত হন শমসের। সে ছিল মেধাবী এবং সাহসী। ১৮৪০ দশকের দিকে দক্ষিণ কুমিল্লা ও উত্তর নোয়াখালি এলাকাজুড়ে ছাকলা রোশনাবাদের অধিপতি হয়ে ছিলেন শমসের। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ ও ইংরেজ জোর জুলুম, লুন্ঠান, অত্যাচার ও দুরশাসনের রিরুদ্ধে প্রতিবাদি হয়ে উঠেন শমসের গাজী।

 

দখল করে সুশাসন শুরু করেন । গরিব কৃষকের খাজনা মওকুফ করেন। বহু হিন্দু মুসলমানকে বিনা খাজনায় ভ’মি দান করেন। বিশুদ্ধ পানির জন্য বেশ কয়েকটি দিঘী খনন করেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফেনীর তার মায়ের নামে শুভপুরের কৈয়ারা দিঘী। পরবতিতে নিজ নামে তিনি শমসের গাজী দিঘী খনন করেন। যার অর্ধেক ভাগ ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আর অর্ধেক ভরত সিমান্তে। পাশেই তাঁর রাজকীয় বাড়ি ছিল। বাড়ির এক পাশে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ করতে তৈরী করেন সুড়ঙ্গ পথ। সে সুড়ঙ্গ পথের স্মৃতি আজও আছে ছাগলনাইয়ার শুভপুরে।

১৭৫৮ সালের দিকে শমসের তার পালিত পিতা জগনাথ সেনের নামে জগনাথ মন্দির স্থাপন করেন। যা বর্তমানে ফেনী শহরের শহিদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কে জগনাথ মন্দির হিসাবে পরিচিত। প্রায় বিশ বছর শাসনের পর ইংরেজ জোট বাধে ত্রিপুরা রাজ্যেও রাজা কৃষ্ণ মানিক্য সাথে । কিন্তু শমসের গাজীর রন কৌশলের কাছে হার মানে । এক পর্যায়ে কৃষ্ণ মানিক্য বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজা মীর কাশেমের শরানপণ্য হন। শমসেরকে পরাজিত করার জন্য মীর কাশেম ইংরেজ বাহিনী প্রেরণ করেন।

 

১৭৬০ সালের দিকে ইংরেজদের গোলা বারুদের আঘাতে নিহত হন জমিদার শমসের গাজীর শেষ স্মৃতি ধরে রাখা অবকাঠামো গুলোও আজ বিলিন হতে চলেছে। ছাগনাইয়ায় বর্তমানেও শমসের গাজীর স্মৃতি ধরে আছে শমসের গাজী দিঘী, শমসের গাজী বাড়ির সিমানা খুটি, শমসের গাজী বাড়ির সুড়ঙ্গ পথ, কৈয়ারা দিঘী ও ফেনী শহরে জগনাথ মন্দির।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *