‘আমি আসলে ফিল্ডিংয়ে খুব একটা ভালো নই।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কাল দিনের বেশির ভাগ সময়ই ফিল্ডিং করেছেন সার্কেলের বাইরে। সাধারণত ক্রিকেটে, বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে দলীয় অধিনায়ক বৃত্তের মধ্যেই ফিল্ডিং করে থাকেন। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নটা উঠেছে। মুশফিকের উত্তরটা শুনে চমকে উঠতে হয়—‘আমি আসলে ফিল্ডিংয়ে খুব একটা ভালো নই। কোচরা চেয়েছেন আমি যেন বাইরে বাইরে ফিল্ডিং করি। আমি সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে নাকি বেশি রান হয়ে যায় বা আমার হাতে ক্যাচট্যাচ এলে নাকি ধরার সম্ভাবনা থাকে না।’
যে খেলোয়াড়টি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তাঁর ফিল্ডিং এতটাই খারাপ যে অধিনায়ক হলেও তাঁকে বৃত্তের বাইরে ঠেলে দিতে হবে!
একজন অধিনায়ক কি শুধু ফিল্ডিং করতেই বৃত্তের মধ্যে থাকেন। যেকোনো ম্যাচেই একটা খসড়া পরিকল্পনা সব খেলোয়াড়ের মাথাতেই থাকে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাগুলো যে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়? অনেক সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলাতে হয়। নতুন পরিকল্পনাগুলো তো আসতে হবে অধিনায়কের মাথা থেকেই। তিনি মার খাওয়া বোলারদের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁর দুর্বলতাগুলো বলে দেবেন। ব্যাটসম্যানের শক্তির জায়গা কিংবা দুর্বল জায়গা তুলে ধরবেন। ক্রিকেটের অধিনায়ক তো এ কারণেই অন্য খেলাগুলোর চেয়ে আলাদা। ফুটবল বা অন্য খেলাতে যেকোনো সিনিয়র খেলোয়াড়ই অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড হাতে পরতে পারেন, কিন্তু ক্রিকেটে অধিনায়ক হতে হয় ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্ককেই। মুশফিককে তো দেখা যাচ্ছে এই মৌলিক ব্যাপারগুলোই এড়িয়ে যেতে।
ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনের খেলার দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক। মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে তিনি প্রথম কথা বলেন ইনিংসের ৫০তম ওভারে এসে। অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে বল করতে এসে তাঁর প্রথম বলটাই ছিল নো-বল। সেই ওভারেই ডিন এলগারকে বাউন্সার দিয়েছেন তিনি, পুল খেলতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি ব্যাটসম্যান। উইকেটকিপার লিটনের উচ্চতা আর কয়েক ইঞ্চি বেশি হলে ক্যাচটা নিতেও পারতেন। ফিজের পরের ওভারে আবারও বাউন্সার, আবারও পুল, তবে এবার বল পড়েছে ওয়াইড মিড-অনে। এরপর শুভাশিস রায়ের ওভারে আবারও পুল শট খেলেছেন এলগার, ফাইন লেগে এবার ক্যাচটা নিয়েছেন সেই মোস্তাফিজ। মাঠে একটু পরিকল্পনা, বোলারদের সঙ্গে কথাবার্তার ফল কিন্তু মেলে। কিন্তু মুশফিক সেটি করেছেন অনেক পরে।
বিদেশের কারও দিকে দেখতে হবে না। ৫০ ওভারের ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজাই সব সময় বোলারদের সঙ্গে কথা বলেন। হয়তো নিজে বোলার বলেই পরিকল্পনাটা বাতলে দিতে পারেন। বিদেশের মাটিতে এমন দুর্ভোগের দিনে এটুকু শিখে নেওয়াটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। টেস্টে আমাদের মাশরাফি তো মুশফিকই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *