অশ্রুর ফোঁটায় নীরব প্রতিবাদ…!

  সৌরভ পাটোয়ারী, ফেনী,  Today at 14:01
 কোন ভাই নেই, চার বোনের মধ্যে মোহামুদা আক্তার শিরিন ছিল দ্বিতীয়। বড় বোন সুলতানার কান্না আর আর্তনাদ এরপর যখন শোকে ভাসছিল সেই পরিবার । তখন শিরিনের ছোটবোন ফারহানা আক্তারও  শোকে বাকরুদ্ধ। কন্ঠে কোন কথা নেই ,শুধু অশ্রু ঝরছে। আজ ২৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার যখন সারা ফেনীশহর জুড়ে শিরিন হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সভা সমাবেশ মানববন্ধন চলছিল তখন নীরবে-নিভৃতে চোখের পানি ঝরিয়ে কাঁদছিল তার শিরিনের স্নেহের ছোট বোনটি। তার চোখের ভাষা- চোখের জল বলছিল প্রতিবাদ- বোনের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই। সে রাজাপুর জাফর ইমাম বীর বিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সেই স্কুলে তার বড় বোন মাহমুদা আক্তার শিরিন পড়ালেখা করে অধ্যায়ন শেষ করেছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। হাতের মেহেদির রং না শুকাতেই শ্বশুরালয়ের নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে অকালে মরতে হলো শিরিনকে। সহজ সরল অবলা নারী গৃহবধূ শিরিনের একটিমাত্র দোষ ছিল, সেটি হচ্ছে এই গরীবের ঘরে জন্ম নেওয়া! গরীবের ঘরে জন্ম নেয়া তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিয়ের ৮ মাসের মধ্যে ৬ মাস মাসেই শিরীনকে থাকতে হয়েছিলো শ্বশুরালয়ে। শিরিনের বাড়িতে পাকা বিল্ডিং নেই, পাকা টয়লেট নেই। তার জের ধরে খুনি শাহীন তাকে বাড়িতে আসতে দিত না। বাড়ি আসার জন্য বললেই তাকে গরিব বলে বিদ্রুপ কটাক্ষ করা হতো। বাড়ি আসার জন্য স্বামীকে চাপ সৃষ্টি করলে একপর্যায়ে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু বোন হত্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও খুনি শাহীন কে গ্রেপ্তার না হওয়ায় শোক ও আতঙ্ক আরো বেড়েছে তাদের পরিবারে।আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামানের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে মামলার বাদী শিরিনের বাবা জানালেন শাহিনের পরিবারের হুমকিতে আতঙ্কে রয়েছে দিন কাটছে তাদের পরিবার।
মানববন্ধন কালীন সময়ে সাংবাদিকরা তার বক্তব্য নিতে চাইলে এবং তার সাথে কথা বলতে চাইলে ফারহানা কোনো কথা বলেনি। শুধু নীরবে কেঁদেছে চোখের পানি ফেলেছে।
এর আগে
 ফেনীর রামপুরে গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার শিরিন হত্যার প্রতিবাদে স্মারক জেলা প্রশাসক নিকট স্মারক লিপি প্রদান, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে আবারো উত্তাল ফেনী । রাস্তায় নেমেছে স্বজনদের সাথে সর্বস্তরের মানুষ ।বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ এমনটি প্রমাণ করে । এর আগে শিরিনের হতভাগা ফিতা মামলার বাদী অহিদুর রহমান তার মেয়ে শিরিন হত্যার বিচার দাবিতে ফেনী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে ।স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন আমার কন্যা মাহমুদা আক্তার শিরিন কে যৌতুকের দাবিতে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার কারণে পাঁচ আসামিকে গত ১৮ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা করি। মামলার আসামীগণ পরস্পর যোগসাজশে গত ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার সময় নৃশংস ভাবে রামপুর পাটোয়ারীর বসতবাড়িটি সারা শরীর রক্তাক্ত জখম করে। আমার মেয়ে জামাই শাহজালাল শাহিন আমার মেয়েকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আমি মামলা দায়ের করার পর হতে অধ্যবধি পর্যন্ত মূল আসামী গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। আসামিদের হুমকিতে ভীতি প্রদর্শন বিভিন্ন কারণে আমার পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। উল্লেখ্য যে গত ৭ ফেব্রুয়ারি আমার মেয়েকে উক্ত আসামি শাহ্জালাল শাহিনের নিকট বিবাহ দি। বিবাহের মাত্র ৮ মাসের মাথায় আমার মেয়েকে আসামি শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
বিক্ষোভ সমাবেশ স্মারকলিপি ও মানববন্ধনের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন, শিরিনের বাবা অহিদুর রহমান শিরিনের জেঠাতো ভাই আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, ফেনী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা ইসরাত জাহান দোলা, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রবিন ও শিরিনের স্কুল জাফর ইমাম বীর বিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা। এ সময় হঠাৎ চারদিক থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়ে ফেনী শহর। সবার এক দাবী শিরিন হত্যাকারী শাহজালাল শাহিনের ফাঁসি চাই। তা না হলে আন্দোলনে নামবে ছাত্র সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *