অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মে ভরপুর ছাগলনাইয়ায় আবদুল হক ডিগ্রী কলেজ

নিজস্ব প্রতিনিধি>>

নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কারণে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার আলহাজ্ব আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কলেজটির গভর্ণিংবডির কয়েকজন সদস্যের টানা ৬-৭টি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার পরও সরকারি বিধির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাঁটিয়ে নিজের সদস্য পদ ধরে রাখার অভিযোগ ওঠেছে । এদিকে, কলেজের বর্তমান সভাপতি ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার সমস্যাগুলি তদন্ত করে সূরাহা করার কথা জানিয়েছেন ।

জানাগেছে, ফেনী ১ নির্বাচনী এলাকার ছাগলনাইয়া-ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার একমাত্র অনার্স মাষ্টার্স কলেজ হিসেবে আলহাজ্ব আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজটি দেড় দশক ধরে এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। আটটি বিষয়ে অনার্স এবং দুইটি বিষয়ে মাষ্টার্স কোর্স চালু রয়েছে কলেজটিতে। কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন বিশিষ্ঠ শিক্ষানুরাগী ও শিল্পপতি এনামুল হক চৌধুরী ও তার পরিবার । প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘদিন তারাই কলেজটির কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কলেজটির সভাপতি হয়েছেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাসদের কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। তিনি গভর্ণিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন কলেজটিতে ধারাবাহিক নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্ঠি হয়েছিল । কখনো কখনো ওই সব অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে থানায় মামলা পর্যন্ত হয়েছিল। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, দাতা সদস্য আজিজুল হক চৌধুরী, হিতৈষী সদস্য ফজলুল হক চৌধুরী, শিক্ষক প্রতিনিধি নুরুল আমিন, অভিভাবক সদস্য মাজাহার উল্লাহ ভূঞা ও সামছুল হুদা মজুমদার গভর্ণিং বডির ৬ থেকে ৭টি বৈঠকে টানা অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধি মোতাবেক টানা তিনটি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেই পরবর্তী বৈঠকে সদস্য হিসেবে বৈঠকে অংশ অবৈধ হওয়ার কথা। বর্তমান কমিটি গত ৭মার্চ ২০১৬সালে প্রথম বৈঠক করার পর থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত মাত্র দশটি বৈঠক করেছেন বলে জানাগেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি থাকা সত্ত্বেও অনার্স মাষ্টার্স শাখার প্যাটান্টভূক্ত শিক্ষকদের তাদের স্কেল অনুযায়ী বেতন প্রদান করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কলেজের শিক্ষকরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও শিক্ষকদের স্কেল অনুযায়ী বেতন না দেয়ায় শিক্ষকরা স্বাভাবিক পাঠদানে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রধান করার অভিযোগ ওঠেছে। কলেজের প্রায় ২হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্যে শিক্ষক সংকট নিরসনে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও কমিটি নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী ১৩ মার্চ কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ কবির আহম্মদ অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষের অবর্তমানে উপাধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও কমিটির পছন্দের জুনিয়র এক শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়ার গুনজন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা নানামুখী সমস্যার কারণে শিক্ষক ,অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যেও কলেজটির স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানাগেছে। কলেজটি গভর্ণিংবডির বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে ।

এ ব্যাপারে গত বুধবার কলেজের অধ্যক্ষ কবির আহম্মদ গভণিংবডির কয়েকজন সদস্যের টানা অনুপস্থিতি ও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গভর্ণিংবডির বাহিরে গিয়ে তাদের কিছু করার নেই ,তিনি অসহায় বলেও জানান ।
ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী বলেন, সমস্যাগুলো গভর্ণিংবডিই সমাধান করতে পারেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এমপি মহোদয়ের নজরে বিষয়টি আনবেন বলে তিনি জানিয়েছেন ।

ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী বলেন, কলেজটির বিভিন্ন সমস্যার কথা তিনি জেনেছেন, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দুনীর্তিমুক্ত করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা । কলেজটির সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তার ভূমিকা রাখার কথা জানান ।
কলেজের বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের ব্যাপারে গতকাল বুধবার বিকেলে জানতে চাইলে গভর্ণিংবডির সভাপতি ও ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, তিনি তদন্ত করে দেখছেন এবং সমস্যাগুলি সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *