অনাহারে থেকে যুদ্ধ করেছি প্রিয় মাতৃভূমির জন্য

সৌরভ পাটোয়ারী, ফেনী : ৪ মার্চ ২০১৮

টানা দুই দিন অনাহারে থেকে যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য। কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়, সাড়ে ৭ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বলে জানিয়েছেন ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের।

 

তিনি বলেন, বয়স তখন ২৬, পড়ালেখার পাশাপাশি শিকতা করতাম। ফলে সবাই খায়ের মাস্টার বলে ডাকত। ডিগ্রি ফাইনাল পরীা দিয়েছি, এমন সময়টাতে ১৯৭১ সালের মার্চে চারদিকে পাক-সেনাদের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে একটি অপারেশনে আমাকে ডাকা হলো। কিন্তু করব কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছিলাম। এরই মধ্যে ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনী ঢাকায় ছাত্র-পুলিশ, বিডিআর হত্যা করেছে বলে তথ্য পেলাম। ২৬ মার্চ রাতে যোগ দিলাম মুক্তিবাহিনীতে। আমার সঙ্গে ছিলেন ফেনীর মুক্তিসেনা শাহজাদা, মর্তুজা ভ‚ঁইয়া, পরশুরামের এমরানুল করিম, কুটিরহাটের বাবু দিলীপ, জেলা ছাত্র মজলিশের সাধারণ স¤পাদক আমার ভাতিজা মিজান ও নবী কাকা।

 

ফুলগাজীর বন্ধুয়া নামক স্থানে আমাদের নেতা নুরুল ইসলাম হাজারীর নেতৃত্বে মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকায় হানাদারদের গাড়িতে আক্রমণ করি। তাদের পাল্টা আঘাতে সামছুল হক শহীদ হন। সেদিন হানাদারদের সঙ্গে আমরা পেরে উঠিনি। তখন ভারতে পালিয়ে যাই। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর ইমামের সঙ্গে দেখা হয়। সেখানে ৮/১০ দিন থাকার পর আবার যুদ্ধস্থল বন্ধুয়া নামক স্থানে আসি।

 

তখন আমাদের দলে ২২ জন মুক্তিসেনা। আমাদের দায়িত্ব পড়ল বন্ধুয়া কালা ব্রিজ ভাঙতে হবে। কারণ, হানাদাররা এ পথে আসা যাওয়া করে। ব্রিজ ভাঙার আগে আমাকে পরিদর্শনে পাঠানো হল। সঙ্গে ছিল রহমান ও দেলোয়ার। তখন আমি রাখাল সাজলাম। হাতে ঘাসের খাঁচা। তারা মনে করেছে আমরা কৃষক। একপর্যায়ে ব্রিজ ভাঙার উদ্দেশে আমি ব্রাশফায়ার করলাম। মারা গেল পাকসেনা হাবিলদার কালাম এবং আরেক পাকসেনা।

 

এসময় পাক হানাদার বাহিনী আমাদের দিকে গুলি ছুড়লো। আমরা শুয়ে পড়লাম মাটিতে। আমার সঙ্গের একজন শহীদ হলেন। আমি কোন রকম প্রাণটা বাঁচিয়ে চলে এলাম এবং গেলাম ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের কাছে।

 

তিনি বলেন, এভাবে হবে না, পরিকল্পনা পাল্টাতে হবে। ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। আমরা মুন্সিরহাটে ক্যা¤প করেছি সেখানে যুদ্ধ হবে। সেখানে টানা দুইদিন অনাহারে থেকে যুদ্ধ করেছি। পরে চাল-ডাল আর শুধু ডিম খেয়েছি। প্রায় এক মাস এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকল।

 

মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের বলেন, প্রায় ৮ মাস শেষ হলো, ৯ মাসের শুরু। এভাবে ফেনীকে আমরা মুক্ত করি পাক হানাদারের কবল থেকে ৬ ডিসেম্বও ১৯৭১ সালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *